ক্যান্সার। শব্দটা শুনলেই আৎকে উঠেন। কারণ প্রতি বছর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে লক্ষাধিক লোক মারা যাচ্ছেন। তবে আশার কথা হলো- বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে এই ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও জয় পাচ্ছে মানুষ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফুসফুস, লিভার, কিডনিসহ অন্য সব সফট টিস্যুর ক্যান্সার এবং হাড়ের ক্যান্সারের অত্যন্ত কার্যকর এবং সর্বাধুনিক চিকিৎসা RFA এখন বাংলাদেশেও হচ্ছে। অপারেশন করে ক্যান্সার টিউমারসহ আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলে দেওয়াই হলো এ রোগের মূল চিকিৎসা। প্রাথমিকভাবে এদের সাধারণত কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু এসব চিকিৎসা সফলতার হার ৩০-৫০ ভাগ মাত্র এবং রোগীকে কয়েক মাসের জন্য শুধু সুস্থ রাখা যায়। কিন্তু আধুনিককালে ক্যান্সারের নতুন চিকিৎসা RFA, SBRT বের হয়েছে। যা দ্বারা চিকিৎসা করলে ৮০-৯০ ভাগ রোগীর ক্যান্সার দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানীরা গবেষণায় রেখেছেন, ক্যান্সার টিউমার সাইজ যদি ৩-৫ সে.মি. কিংবা তার ছোট হয় এবং ক্যান্সার ছড়িয়ে না পড়ে থাকে, তবে RFA-এর মাধ্যমে ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।
লিভার ক্যান্সার : অপারেশন করানো সম্ভব হয় না, এমন রোগীদের সাধারণত RFA, PEL কেমো এম্বোলাইজেশন, রেডিও এম্বোলাইজেশন বা কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে, RFA মাধ্যমে চিকিৎসা করে খুব সহজেই অধিকাংশ রোগীর লিভার ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রকৃতপক্ষে RFA-এর ফলাফল এতই ভালো যে, লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে RFAকেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ কেমোথেরাপি দিয়ে যেখানে শতকরা মাত্র ৩০ ভাগ রোগীকে সামান্য সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণ করানো যায়। সেখানে RFA-এর মাধ্যমে চিকিৎসা করলে ৯০ ভাগ রোগীর ক্যান্সার ১ বছর ৮৫ ভাগ রোগীর ক্যান্সার ২ বছর, ৭৫ ভাগ রোগীর ক্যান্সার ৩ বছর এবং ৫০ ভাগ রোগীর ক্যান্সার ৫ বছর পর্যন্তও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ফুসফুস ক্যান্সার : অপারেশন করে ক্যান্সার আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলে দেওয়াই হচ্ছে ফুসফুস ক্যান্সারের মূল চিকিৎসা। কিন্তু যারা অপারেশন করতে চান না, যাদের অপারেশন করা সম্ভব নয় কিংবা যাদের জন্য অপারেশন ঝুঁকিপূর্ণ অর্থাৎ দুর্বল রোগী, তাদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প চিকিৎসা হলো RFA। প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সারটি ছড়িয়ে পড়লে রোগীদের সাধারণত কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হতো। কিন্তু দেখা গেছে এভাবে চিকিৎসা করলে ৪০-৫০ ভাগ রোগীর ক্যান্সার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা সাধারণত ৯ মাস নিয়ন্ত্রণ থাকে। ইদানীং উন্নত বিশ্বে এসব চিকিৎসা কিছুটা এডভান্সড হয়েছে। যেমন- SBRT, RFA, Croyotherapy বা Photodynamic থেরাপি এবং এরপর কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ক্যান্সার টিউমার ধ্বংস করা সম্ভব। তবে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে বা টিউমার সাইজ ৩ সে.মি.-এর বড় হলে বা টিউমার শ্বাসনালির কাছে থাকলে এসব চিকিৎসার সঙ্গে কেমোথেরাপি প্রয়োগে আরও অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা ক্যান্সারকে কোনো অবস্থাতেই অবহেলা করা ঠিক নয়। প্রাথমিক
অবস্থাতেই ক্যান্সারের মোকাবেলা করতে হবে।
Source : Bangladesh protidin

